নতুন সূর্যোদয়: প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন তারেক রহমান, ২৫ মন্ত্রী ও ২৪ প্রতিমন্ত্রী নিয়ে যাত্রা শুরু
- ডেস্ক রিপোর্ট:
- 17 Feb, 2026
দীর্ঘ দুই দশকের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।
আজ মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাকে এবং নবনিযুক্ত মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করান। ২৫ জন মন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী নিয়ে গঠিত হলো বাংলাদেশের নতুন সরকার।
বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে এই প্রথম বঙ্গভবনের চার দেয়ালের বাইরে উন্মুক্ত স্থানে সরকারের শপথ অনুষ্ঠান আয়োজিত হলো। সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে কয়েক হাজার দেশি-বিদেশি অতিথি উপস্থিত ছিলেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এই 'উন্মুক্ত শপথ' অনুষ্ঠানকে জনগণের কাছে সরকারের দায়বদ্ধতার একটি প্রতীকী বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন।
এর আগে আজ সকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন তাদের শপথ পড়ান।
এরপরই সংসদীয় দলের সভায় সর্বসম্মতিক্রমে তারেক রহমানকে সংসদ নেতা নির্বাচিত করা হয়। সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের প্রধান হিসেবে তিনি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক দাবি জানান এবং রাষ্ট্রপতি তাকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানান।
নতুন মন্ত্রিসভা: তারেক রহমানের নেতৃত্বে ২৫ মন্ত্রী ও ২৪ প্রতিমন্ত্রী
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান তার সরকার সাজিয়েছেন ২৫ জন মন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী নিয়ে। এই মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞ জ্যেষ্ঠ নেতাদের পাশাপাশি বেশ কিছু নতুন মুখ স্থান পেয়েছেন, যা তারেক রহমানের আধুনিক ও সংস্কারবাদী নেতৃত্বের প্রতিফলন।
প্রধানমন্ত্রী: তারেক রহমান
মন্ত্রীগণ:
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী
সালাহউদ্দিন আহমদ
ইকবাল হাসান মাহমুদ
হাফিজ উদ্দিন আহমদ
এ জেড এম জাহিদ হোসেন
ড. খলিলুর রহমান (টেকনোক্র্যাট) – অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ছিলেন। এমপি না হলেও টেকনোক্র্যাট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
আব্দুল আউয়াল মিন্টু
কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ
মিজানুর রহমান মিনু
নিতাই রায় চৌধুরী
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির
আরিফুল হক চৌধুরী
জহির উদ্দিন স্বপন
মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ ইয়াছিন (টেকনোক্র্যাট) – কুমিল্লা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন।
আফরোজা খানম (রিতা)
মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি
আসাদুল হাবিব দুলু
মো. আসাদুজ্জামান
জাকারিয়া তাহের
দীপেন দেওয়ান
আ ন ম এহছানুল হক মিলন
সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন
ফকির মাহবুব আনাম
শেখ রবিউল আলম
প্রতিমন্ত্রীগণ:
এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত
মো. শরিফুল আলম
শামা ওবায়েদ ইসলাম
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু
কায়সার কামাল
ফরহাদ হোসেন আজাদ
মো. আমিনুল হক (টেকনোক্র্যাট) – বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ক্রীড়া সম্পাদক ও ঢাকা উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক। তাকে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে।
মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন
হাবিবুর রশিদ
মো. রাজীব আহসান
মো. আব্দুল বারী
মীর শাহে আলম
মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি (জোনায়েদ সাকি)
ইশরাক হোসেন
ফারজানা শারমিন
শেখ ফরিদুল ইসলাম
মো. নুরুল হক নুর
ইয়াসের খান চৌধুরী
এম ইকবাল হোসেইন
এম এ মুহিত
আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর
ববি হাজ্জাজ
আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম
ব্যতিক্রমী আয়োজন ও দেশী-বিদেশী অতিথি
গতানুগতিকভাবে বঙ্গভবনের দরবার হলে শপথ অনুষ্ঠিত হলেও এবারই প্রথম জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় উন্মুক্ত আকাশের নিচে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, যাকে ঐতিহাসিক ‘প্রতীকী’ ঘটনা হিসেবে দেখছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
অনুষ্ঠানে ভারত, পাকিস্তানের প্রতিনিধি এবং দক্ষিণ এশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ৫ আগস্টের অভ্যুত্থানের ছাত্রনেতৃবৃন্দ, গণমাধ্যম প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা এই মাহেন্দ্রক্ষণের সাক্ষী হন।
নির্বাচনের ফলাফল ও ম্যান্ডেট
১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। ২৯৯টি আসনের মধ্যে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসনে জয়লাভ করেছে। নির্বাচনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসনে জয় পেয়ে দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। একইসাথে অনুষ্ঠিত ‘জুলাই সনদ’ বা সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত গণভোটে ৬০ শতাংশের বেশি ভোটার ‘হ্যাঁ’ সূচক রায় দিয়ে নতুন সরকারের সংস্কার এজেন্ডাকে সমর্থন জানিয়েছেন।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিক্রিয়া
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো এই নির্বাচনকে বিশ্বের প্রথম "Gen Z-inspired" বা জেনারেশন জেড প্রভাবিত নির্বাচন হিসেবে অভিহিত করেছে। দ্য হিন্দু, বিবিসি এবং রয়টার্স তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে যে, তারেক রহমানের এই জয় বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন মেরুকরণ সৃষ্টি করবে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ও চীন সরকার ইতিমধ্যে নতুন সরকারকে অভিনন্দন জানিয়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।
আগামীর পথচলা
শপথ গ্রহণ শেষে জাতির উদ্দেশ্যে সংক্ষিপ্ত বার্তায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, "এই বিজয় জনগণের। প্রতিহিংসা নয়, বরং ঐক্য ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে আমরা একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলবো।" নতুন এই মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞ জ্যেষ্ঠ নেতাদের পাশাপাশি বেশ কিছু নতুন মুখ স্থান পেয়েছেন, যা তারেক রহমানের আধুনিক ও সংস্কারবাদী নেতৃত্বের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই সরকার জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে কাজ করবে এবং 'জুলাই সনদ'-এর আলোকে সংবিধান সংস্কার ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে।
Leave a Reply
Your email address will not be published. Required fields are marked *

